অনুশীলনীর রচনা

 নির্দেশিত সংকেত অনুযায়ী "শীতের সকাল" রচনাটি উপস্থাপন করা হলো:


### **শীতের সকাল**


**ভূমিকা:**

বাংলার ছয় ঋতুর মধ্যে শীতকাল বাংলামানুষের কাছে এক বিশেষ আবেদন নিয়ে আসে। আর এই শীতকালের সবচেয়ে মোহনীয় ও মনোমুগ্ধকর মুহূর্তটি হলো তার সকাল। গরমের দাবদাহ ও বর্ষার স্যাঁতসেঁতে ভাব কাটিয়ে শীতের সকাল যেন প্রকৃতির শান্ত, সুন্দর ও প্রাণচাঞ্চল্যময় রূপের প্রতীক। শিশিরভেজা ঘাস, কুয়াশায় ঢাকা প্রকৃতি এবং হালকা রোদের আভা মিলিয়ে এই সকাল এক অনন্য অভিজ্ঞতা এনে দেয়।


**শীতের সকালের রূপ:**

শীতের সকালের সূচনা হয় এক অন্যরকম পরিবেশ নিয়ে। রাতের শেষভাগ থেকেই নামে শীতের কনকনে ঠান্ডা। ভোর হতে না হতেই চারদিক কুয়াশায় আচ্ছন্ন হয়ে যায়, যেন প্রকৃতি একটি সাদা চাদর মুড়ি দিয়েছে। গাছের পাতা, ঘাসের ডগা, মাটির প্রাঙ্গণ—সবকিছুই ঝলমলে শিশু কণায় ভরে ওঠে। ধীরে ধীরে পূর্ব দিগন্তে সূর্যের রক্তিম আভা ফুটে উঠে এবং সোনালি রোদ কুয়াশার পর্দা সরিয়ে প্রকৃতিকে আলোকিত করে তোলে। পাখিরা ডানা মেলে গান গাইতে শুরু করে, আর শিশুরা রোদ পোহানোর আনন্দে মেতে ওঠে।


**প্রকৃতির রূপবদল:**

শীতের সকালে প্রকৃতি যেন নিজেকে নতুন রূপে সাজায়। গাছের পাতা ঝরে পড়তে শুরু করে, কিন্তু এর মধ্য দিয়েই নতুন কুঁড়ির আভাস মেলে। ফুটে থাকে শীতেরফুল—ডালিয়া, গাঁদা, কসমস ইত্যাদি। মাঠে মাঠে শিম্বা, মটর, বেগুন ইত্যাদি সবজির চাষ দেখা যায়। খাল-বিলের পানি স্বচ্ছ থাকে এবং জলের উপর কুয়াশার আস্তরণ এক অদ্ভুত সৌন্দর্যের সৃষ্টি করে। প্রকৃতি যেন এক শান্ত, নিস্তব্ধ ও পরিপূর্ণ রূপ ধারণ করে।


**শহরে শীতের সকাল:**

শহুরে জীবনে শীতের সকালের রূপ কিছুটা ভিন্ন। সকাল হলেও রাস্তাঘাট相对 ফাঁকা থাকে, কারণ ঠান্ডার জন্য মানুষ একটু দেরি করে বের হয়। পার্কগুলোতে বয়স্ক মানুষদের ব্যায়াম এবং রোদ পোহানোর ভিড় লক্ষ্য করা যায়। রাস্তার ধারে গরম চা-নাস্তার দোকানগুলিতে ভিড় জমে। স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীরা উলের সোয়েটার পরে রওনা হয়। তবে শহরের ধোঁয়া, যানবাহনের শব্দ এবং দ্রুত গতির জীবনের মধ্যে শীতের সকালের নিস্তব্ধতা পুরোপুরি ধরা দেয় না।


**গ্রামে শীতের সকাল:**

গ্রাম বাংলায় শীতের সকালের সৌন্দর্য অপূর্ব। ঘন কুয়াশায় চারদিক অদৃশ্য হয়ে যায়। মাঠে-ঘাটে, বাড়ির আঙিনায় জমে থাকা শিশির পায়ে ভিজে যায় হাঁটার সময়। গোয়ালঘর থেকে গরুর ডাক, পাখির কলরব, মাছধরার নৌকার কর্ণফুলি—গ্রাম্য জীবন প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। কৃষকরা তাদের জমিতে কাজে বের হন। গাছে গাছে পাখির কলতান, আর মাঠে মাঠে সবজি ক্ষেত গ্রামের শীতের সকালকে করে তোলে চিত্রকল্পের মতো সুন্দর।


**শীতের সকালের খাওয়া-দাওয়া:**

শীতের সকালের অন্যতম আকর্ষণ হলো এর খাদ্যাভ্যাস। এই সময় সকালের নাস্তা হয় একটু বিশেষত্ব নিয়ে। গরম গরম লুচি-আলুর দম, রুটি-পরোটা, পায়েস, খিচুড়ি ইত্যাদি খাবারের ধুম পড়ে যায়। এছাড়াও খেজুরের রস ও গুড় দিয়ে তৈরি পিঠা-পুলির আয়োজন তো থাকেই। সকালবেলা এক কাপ গরম চা বা কফির স্বাদই যেন আলাদা। তাজা শাকসবজি দিয়ে রান্না করা খাবার স্বাদে এবং পুষ্টিতে ভরা হয়।


**উপসংহার:**

শীতের সকাল হল প্রকৃতির দান করা একটি সুন্দর উপহার। এটি আমাদের জীবনে প্রশান্তি এবং আনন্দ। এই সকাল যেমন কৃষকের জন্য আশীর্বাদ স্বরূপ, তেমনি শহুরে মানুষের ক্লান্ত জীবনে একটু প্রশান্তির ছোঁয়া আনে। প্রকৃতির এই অমূল্য সৌন্দর্য আমাদের মনে一গভীর প্রেরণা ও ভালোবাসার সৃষ্টি করে। তাই ব্যস্ততার মাঝেও আমাদের উচিত শীতের সকালের সৌন্দর্য উপভোগ করা এবং প্রকৃতির কাছ থেকে শিক্ষা নেওয়া।

বাংলাদেশের নদ-নদী

ভূমিকা

বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ নামে পরিচিত। অসংখ্য নদ-নদী বেষ্টিত এ দেশের জন্ম ও বিকাশ নদীর সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। প্রাচীনকাল থেকেই নদী এ দেশের মানুষের জীবন-জীবিকা, কৃষি, বাণিজ্য, পরিবহন, সংস্কৃতি ও সভ্যতার মূল উৎস।

বাংলাদেশের প্রধান নদ-নদী

বাংলাদেশে প্রায় ৭০০-এরও বেশি নদ-নদী প্রবাহিত হয়েছে। এর মধ্যে পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, ব্রহ্মপুত্র, কর্ণফুলী নদী বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এগুলো দেশের ভৌগোলিক গঠন ও অর্থনীতিতে ব্যাপক ভূমিকা রাখে।

পদ্মা নদী

পদ্মা নদী গঙ্গার প্রধান শাখা। এটি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রাণ। পদ্মার তীরবর্তী অঞ্চলে উর্বর মাটি জমে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। পদ্মা নদীর তীরে পদ্মা সেতু নির্মাণের ফলে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের নতুন দ্বার উন্মোচিত হয়েছে।

মেঘনা নদী

মেঘনা নদী বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান নদী। এর উৎপত্তি আসাম থেকে এবং এটি বৃহৎ জলরাশির জন্য বিখ্যাত। মেঘনা নদী মাছের জন্যও প্রসিদ্ধ। দেশের ভেতর যোগাযোগ ও পণ্য পরিবহনে এ নদীর ভূমিকা অপরিসীম।

যমুনা নদী

যমুনা নদী ব্রহ্মপুত্রের শাখা। এটি বাংলাদেশের অন্যতম প্রশস্ত নদী। যমুনার তীরে উর্বর চরাঞ্চল গড়ে ওঠে যা কৃষি উৎপাদনে সহায়ক। যমুনা সেতুর মাধ্যমে দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হয়েছে।

ব্রহ্মপুত্র নদী

ব্রহ্মপুত্র নদ বাংলাদেশের উত্তরের দিক দিয়ে প্রবেশ করেছে। এটি বিশাল জলরাশি নিয়ে প্রবাহিত হয়ে দেশের কৃষি, পরিবহন ও বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। বর্ষাকালে এর জলধারা প্রবল হয়ে ওঠে এবং কৃষির জন্য পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ করে।

কর্ণফুলী নদী

কর্ণফুলী নদী চট্টগ্রাম বিভাগের প্রধান নদী। এর তীরে দেশের একমাত্র জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র কাপ্তাই বাঁধ অবস্থিত। এ নদীর মাধ্যমে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর ও পার্বত্য এলাকার যোগাযোগ রক্ষা হয়।

নদ-নদীর উপকারিতা

বাংলাদেশের নদ-নদী আমাদের জীবনে নানা উপকার নিয়ে আসে। কৃষি উৎপাদনের জন্য পানি ও পলি সরবরাহ করে, মাছের প্রাচুর্যতা সৃষ্টি করে, পরিবহন ব্যবস্থায় সহায়তা করে এবং বাণিজ্যের পথ উন্মুক্ত করে। নদী তীরবর্তী মানুষ তাদের জীবিকা নির্বাহ করে নদীর ওপর নির্ভর করে।

নদ-নদীর অপকারিতা

নদীর অনেক উপকারিতা থাকলেও এর কিছু অপকারিতাও রয়েছে। বর্ষাকালে নদীতে অতিরিক্ত পানি প্রবাহিত হয়ে ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি করে। এতে ফসল, ঘরবাড়ি ও মানুষের জীবনহানি ঘটে। কখনো কখনো নদীভাঙন মানুষের ভিটেমাটি কেড়ে নেয়।

নদীভাঙন

নদীভাঙন বাংলাদেশের অন্যতম গুরুতর সমস্যা। পদ্মা, যমুনা ও মেঘনা নদীর ভাঙনে প্রতি বছর হাজারো পরিবার গৃহহীন হয়। অনেক উর্বর কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এ সমস্যা মোকাবেলায় সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

উপসংহার

বাংলাদেশের নদ-নদী আমাদের জাতীয় জীবনের অপরিহার্য অংশ। এগুলো দেশের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করার পাশাপাশি কৃষি, মৎস্য, পরিবহন ও বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। তবে নদীভাঙন ও বন্যা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। নদ-নদীর যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করলে বাংলাদেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি আরও বেগবান হবে।



Comments

Popular posts from this blog

islam shikha

“Gardening”

এসাইনমেন্ট