দীর্ঘক্ষণ বসে থাকলে পা ফুলে যাওয়ার

 জি, অবশ্যই। বসে থাকার সময় পা ফুলে যাওয়া একটি非常 সাধারণ সমস্যা। এটা নিয়ে চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই, তবে কারণ জানা এবং প্রতিকার করা জরুরি।


### **পা ফুলে যাওয়ার主要原因 (কারণ)**


দীর্ঘক্ষণ বসে থাকলে, বিশেষ করে নড়াচড়া না করলে, আমাদের দেহের নিচের অংশে (পায়ে) **রক্ত এবং তরল (লিম্ফ)** জমা হয়ে যায়। এর পেছনে মূল কারণগুলো হলো:


১. **মাধ্যাকর্ষণ বল (Gravity):** দীর্ঘক্ষণ পা নিচের দিকে রাখলে মাধ্যাকর্ষণের টানে রক্ত ও তরল পদার্থ পায়ের নিচের দিকে জমা হতে থাকে।


২. **পেশীর সংকোচন কমে যাওয়া:** হাঁটাচলা বা পায়ের নড়াচড়ার সময় আমাদের পায়ের পেশীগুলো সংকুচিত ও প্রসারিত হয়, যা রক্তকে শিরা বেয়ে উপরে হৃদপিণ্ডের দিকে পাঠাতে সাহায্য করে। একে "Calf Muscle Pump" বলে। বসে থাকলে এই পাম্পিং এক্টিভিটি বন্ধ থাকে, ফলে রক্ত ও তরল জমে পা ফুলে যায়।


৩. **লসিকা প্রবাহে বাধা:** বসার ভঙ্গির কারণে লসিকা (লিম্ফ) নালির কাজেও বাধা সৃষ্টি হতে পারে, যা তরল জমা হতে সহায়তা করে।


### **কারো কারো বেশি হয় কেন?**


কিছু শারীরিক অবস্থা বা অভ্যাস এই সমস্যাকে ত্বরান্বিত করতে পারে:

*   গর্ভাবস্থা

*   ওজন বেশি হওয়া

*   বয়স বাড়ার সাথে সাথে শিরার দুর্বলতা

*   হার্ট, কিডনি বা লিভারের রোগ

*   শিরায় রক্ত জমাট বাধার (Deep Vein Thrombosis - DVT) ইতিহাস

*   কিছু বিশেষ ওষুধ (যেমন: উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ, স্টেরয়েড ইত্যাদি)


### **পা ফোলা কমানোর ঘরোয়া উপায় ও প্রতিকার (Remedies)**


১. **পা উঁচু করে রাখুন:** বসে থাকার সময় একটি ছোট স্টুল বা মল ব্যবহার করে পা উঁচু করে রাখুন। এতে মাধ্যাকর্ষণের বিপরীত দিকে রক্ত প্রবাহিত হতে সাহায্য করবে। বাড়িতে শুয়ে বা বসে থাকার সময়ও পায়ের নিচে বালিশ দিন।


২. **নিয়মিত হাঁটাচলা ও স্ট্রেচিং:** প্রতি ৩০ মিনিট থেকে ১ ঘন্টা পরপর উঠে দাঁড়ান, একটু হাঁটাহাঁটি করুন এবং পায়ের স্ট্রেচিং করুন। এটি পায়ের পেশী পাম্পকে সক্রিয় করবে।


৩. **পর্যাপ্ত পানি পান করুন:** শরীরে পানি স্বল্পতা হলে বডি ফ্লুইড জমা রাখতে চায়, তাই বেশি করে পানি পান করলে ফোলা কমতে পারে।


৪. **আরামদায়ক জুতা ও পোশাক:** টাইট জুতা, মোজা বা প্যান্ট পরা এড়িয়ে চলুন।


৫. **ব্যায়াম:** নিয়মিত হাঁটা, সাইকেল চালানো, সাঁতার কাটা ইত্যাদি পায়ের রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে।


৬. **লবণ কম খান:** অতিরিক্ত লবণ খেলে শরীরে পানি জমে, তাই লবণ গ্রহণ কমিয়ে দিন।


৭. **পায়ের ম্যাসাজ:** হালকা হাতে পা থেকে উরুর দিকে upwards ম্যাসাজ করুন। এটি জমে থাকা তরল সরিয়ে দিতে সাহায্য করবে।


৮. **সম্পৃক্ত চর্বি ও কার্বোহাইড্রেট কম খান:** এই ধরনের খাবার প্রদাহ ও ফোলাভাব সৃষ্টি করতে পারে।


### **কখন ডাক্তার দেখাবেন?**


যদি পা ফোলার সাথে নিচের লক্ষণগুলো দেখা দেয়, তাহলে দেরি না করে ডাক্তারের শরনাপন্ন হোন:

*   পা ফুলে শক্ত হয়ে যাওয়া এবং চাপ দিলে গর্ত হয়ে যাওয়া (Pitting Edema)।

*   পায়ে তীব্র ব্যথা, লাল হয়ে যাওয়া বা গরম লাগা।

*   শ্বাসকষ্ট বা বুক ব্যথা হওয়া (হঠাৎ হার্ট অ্যাটাক বা ফুসফুসে রক্ত জমাট বাঁধার লক্ষণ হতে পারে)।

*   একপায়ে বেশি ফোলা, যা Deep Vein Thrombosis (DVT) এর লক্ষণ হতে পারে। এটি একটি非常 ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা।


**সারসংক্ষেপ:** দীর্ঘক্ষণ বসে থাকলে পা ফোলা একটি সাধারণ শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া। নিয়মিত নড়াচড়া, পা উঁচু করে রাখা এবং স্বাস্থ্যকর অভ্যাস এর থেকে মুক্তি দিতে পারে। তবে যদি ফোলা খুব বেশি হয়, ক্রমাগত থাকে বা অন্য কোনো লক্ষণ যোগ হয়, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

Comments

Popular posts from this blog

islam shikha

“Gardening”

এসাইনমেন্ট