সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর
রূপাকে তার মা একজন নবীর কথা যিনি ইসলাম জন্য নিবেদিত প্রাণ ছিলেন। তিনিই সর্ব প্রথম ইসলাম গ্রহণের সৌভাগ্য অর্জন করেন তাকে মহান আল্লাহ তায়ালা শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন এবং জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছিলেন।
ক. ইমাম আবু হানিফার পরিচয় দাও ?
খ. ফিকহ শাস্ত্রে ইমাম আবু হানিফার অবদান সংক্ষেপে লিখ ।
গ. উদ্দীপকে কোন নারীর কথা বলা হয়েছে ? ইসলামের সেবায় তার অবদান বর্ননা কর।
ঘ. উক্ত নারী হলেন ইসলামের শ্রেষ্ঠ নারীদের মধ্যে অন্যতম_ পাঠ্য বইয়ের আলোকে বর্ণনা কর।
উত্তরঃ (ক)
ইমাম আবু হানিফার পরিচয়:
ইমাম আবু হানিফা (রহঃ) ছিলেন ইসলামের একজন মহান আলেম ও ফকিহ (আইনবিদ)। তিনি ইসলামি শরীয়াহর নিয়ম-কানুন বুঝে মানুষকে সঠিক পথে চলার শিক্ষা দিতেন।
তাঁর আসল নাম ছিল নু‘মান ইবন সাবিত। তিনি ইরাকের কুফা শহরে জন্মগ্রহণ করেন খ্রিষ্টাব্দ ৬৯৯ সালে। ছোটবেলা থেকেই তিনি খুব বুদ্ধিমান ও সত্যবাদী ছিলেন।
ইমাম আবু হানিফা ইসলামী আইন ও ফিকহ বিষয়ে অনেক গবেষণা করেন। তিনি কুরআন ও হাদীসের আলোকে মানুষকে সঠিক জীবনযাপনের নিয়ম শিখিয়েছেন। তাঁর শেখানো নিয়ম অনুযায়ী যে মাজহাব গঠিত হয়েছে, সেটির নাম হানাফি মাজহাব। আজও সারা বিশ্বের অনেক মুসলমান এই মাজহাব অনুসরণ করেন।
তিনি ছিলেন ন্যায়পরায়ণ, সৎ ও সাহসী ব্যক্তি। অন্যায়ের সঙ্গে কখনও আপস করতেন না।
ইমাম আবু হানিফা খ্রিষ্টাব্দ ৭৬৭ সালে বাগদাদ শহরে মৃত্যুবরণ করেন। মুসলমানরা তাঁকে অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে।
সংক্ষেপে:
ইমাম আবু হানিফা (রহঃ) ছিলেন একজন মহান ইসলামি পণ্ডিত, যিনি আমাদেরকে কুরআন ও হাদীস অনুযায়ী জীবনযাপনের শিক্ষা দিয়েছেন।
(খ) উত্তরঃ
ফিকহ শাস্ত্রে ইমাম আবু হানিফার অবদান:
ইমাম আবু হানিফা (রহঃ) ফিকহ শাস্ত্রে অনেক বড় অবদান রেখেছেন। ফিকহ মানে হলো — কুরআন ও হাদীসের আলোকে ইসলামের নিয়ম-কানুন বুঝে জীবন পরিচালনা করা।
তিনি কুরআন, হাদীস, ইজমা (আলেমদের মতৈক্য) ও কিয়াস (যুক্তি) অনুযায়ী মানুষের দৈনন্দিন জীবনের নানা প্রশ্নের সমাধান দিয়েছেন।
তিনি ইসলামি আইনকে সুন্দরভাবে সাজিয়ে সাধারণ মানুষের জন্য সহজভাবে বুঝিয়ে দিয়েছেন।
ইমাম আবু হানিফার শিক্ষার ওপর ভিত্তি করে হানাফি মাজহাব গঠিত হয়, যা আজও সারা বিশ্বের অনেক মুসলমান অনুসরণ করেন।
সংক্ষেপে:
ইমাম আবু হানিফা ফিকহ শাস্ত্রকে সাজিয়ে গড়ে তুলেছিলেন এবং ইসলামি আইনকে সহজভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছিলেন।
(গ) উত্তরঃ
উত্তর:
উদ্দীপকে যে নারীর কথা বলা হয়েছে, তিনি হলেন — হযরত খাদিজা (রাঃ)।
🌸 ইসলামের সেবায় তাঁর অবদান:
১. প্রথম ইসলাম গ্রহণকারী:
হযরত খাদিজা (রাঃ) ছিলেন প্রথম ব্যক্তি যিনি মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সঃ)-এর দাওয়াত শুনে ইসলাম গ্রহণ করেন।
২. নবীজির সাহস ও সহায়:
যখন নবীজী (সঃ) প্রথম ওহি প্রাপ্ত হয়ে ভয় পেয়ে যান, তখন তিনিই নবীজীকে সান্ত্বনা দেন, ধৈর্য ধরতে উৎসাহ দেন এবং আশ্বস্ত করেন যে, আল্লাহ কখনও তাঁকে অপমান করবেন না।
৩. আর্থিক সহায়তা:
তিনি ছিলেন একজন ধনী ব্যবসায়ী মহিলা। তিনি তাঁর সমস্ত ধন-সম্পদ ইসলামের প্রচার ও মুসলমানদের সাহায্যে ব্যয় করেন।
৪. ত্যাগ ও নিবেদন:
ইসলামের শুরুতে তিনি নবীজীর সঙ্গে কষ্ট সহ্য করেছেন, মুসলমানদের ওপর নির্যাতনের সময়ও ধৈর্য ধরেছেন এবং নবীজীর পাশে ছিলেন মৃত্যুর আগ পর্যন্ত।
সংক্ষেপে:
হযরত খাদিজা (রাঃ) ছিলেন ইসলামের প্রথম নারী মুসলমান, নবীজীর নিবেদিত সহধর্মিণী এবং ইসলামের মহান সেবক। আল্লাহ তায়ালা তাঁকে জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছেন।
(ঘ) উত্তরঃ
উত্তর:
উক্ত নারী হলেন হযরত খাদিজা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)। তিনি ইসলামের শ্রেষ্ঠ নারীদের একজন।
🌸 পাঠ্যবইয়ের আলোকে বর্ণনা:
হযরত খাদিজা (রাঃ) ছিলেন মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সঃ)-এর প্রথম স্ত্রী। তিনি ছিলেন অত্যন্ত জ্ঞানী, সৎ ও ধনী ব্যবসায়ী মহিলা। নবী করিম (সঃ) যখন নবুওয়াত প্রাপ্ত হন, তখন তিনিই সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণ করেন।
তিনি নবীজীকে সবসময় সাহস ও সহায়তা দিতেন। ইসলামের শুরুতে যখন মুসলমানরা নানা কষ্ট ও নির্যাতনের মুখে পড়ে, তখন তিনি তাঁর ধন-সম্পদ ও ভালোবাসা দিয়ে নবীজীকে সহযোগিতা করেন।
মহান আল্লাহ তায়ালা তাঁকে জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছেন এবং রাসুলুল্লাহ (সঃ) তাঁর সম্পর্কে বলেছেন —
“খাদিজা আমার উপর যেমন বিশ্বাস রেখেছিলেন, তেমন কেউ রাখেনি।”
সংক্ষেপে:
হযরত খাদিজা (রাঃ) ছিলেন ইসলামের প্রথম বিশ্বাসী নারী, নবীজীর সহধর্মিণী এবং ইসলামের শ্রেষ্ঠ নারীদের একজন। আল্লাহ তায়ালা তাঁকে জান্নাতের শুভ সংবাদ দিয়েছেন। 🌷
Comments
Post a Comment